চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কারখানা স্থাপন করে গাড়ি উৎপাদন করলে তাতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
১১ সেপ্টেম্বর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনা কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে গাড়ি উৎপাদন করতে চাইলে তার প্রশাসন বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপন করলে এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
ট্রাম্প উদাহরণ হিসেবে জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য, জাপানের বিভিন্ন কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা পরিচালনা করছে এবং সেখানে মার্কিন নাগরিকদের চাকরি দিচ্ছে। একইভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কার্যক্রম চালালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
তবে মেক্সিকোতে উৎপাদিত চীনা গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমদানি করার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান ভিন্ন। তিনি স্পষ্ট করেন, তার মূল উদ্বেগ গাড়িটি কোন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে কি না।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন চীনা গাড়ি নির্মাতাদের মার্কিন বাজারে প্রবেশ নিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতা ও স্থানীয় গাড়ি শিল্পের মধ্যে বিতর্ক চলছে।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীনা গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা না করার জন্য মার্কিন গাড়ি শিল্পের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিন সম্প্রতি দাবি করেন, চীনা গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বৃহত্তর কোনো চুক্তির অংশ হতে পারে। তবে ট্রাম্প এ বক্তব্যকে ভিত্তিহীন গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, চীনা গাড়িকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রাখার নীতি তার প্রশাসন বহাল রেখেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে জো বাইডেনের প্রশাসন চীনা গাড়ি নির্মাতাদের ঘিরে নতুন বিধিনিষেধ চালু করে। এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী গাড়ি উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ কঠিন হয়ে পড়ে। একই সময়ে চীনে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ওয়াশিংটন ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করে।
চীনা গাড়ির প্রবেশ ঠেকাতে মার্কিন গাড়ি শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যালায়েন্স ফর অটোমোটিভ ইনোভেশনও কংগ্রেসের কাছে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে জেনারেল মোটরস, ফোর্ড, টয়োটা, ভক্সওয়াগেন, হুন্দাই, হোন্ডা ও স্টেলান্টিসের মতো বড় নির্মাতারা রয়েছে।
সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী জন বোৎসেলা কংগ্রেসের নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করেন, চীনা গাড়ি নির্মাতারা সরকারি সহায়তায় তৈরি যানবাহন এবং ইন্টারনেট-সংযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।