জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পার হলেও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক পুলিশ সদস্য হতাহত হন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকে সাময়িকভাবে কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপনে যান।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে নানা উদ্যোগ নেয়। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, আইনের প্রতি মানুষের সচেতনতা ও আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়লে পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব। তিনি জানান, পুলিশ আইন অনুযায়ী এবং প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও চেইন অব কমান্ড আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পদায়ন ও পদোন্নতি, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার করা গেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি আরও টেকসই হবে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, জনসচেতনতা, কার্যকর পুলিশি সংস্কার এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্র: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম।