প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬ কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এক রাতের ব্যবধানে আগুনের বিস্তৃতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৮ আগস্ট) পর্যন্ত দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে ৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকায়। আগুনের ঝুঁকিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাইওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রদেশটির প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ওই সময় পুরো ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ১০০টির বেশি দাবানল সক্রিয় ছিল। তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া, প্রবল বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এসব আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সামারল্যান্ড এলাকায় প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দাকে শুক্রবার রাতে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে দাবানলে এখন পর্যন্ত কতগুলো বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি জানিয়েছেন, দাবানলের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনের বিস্তৃত এলাকার পাশাপাশি ফায়ার লাইনের পেছনের বিভিন্ন স্থানেও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে। ইবি বলেন, অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কেউ কেউ এখনো স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আগুন শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম বাল্ড রেঞ্জ এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া যায়। এরপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফাউল্ডার এলাকার ওপর দিয়ে আগুন এগিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সামারল্যান্ডের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক রেকর্ড তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অতিরিক্ত তাপে বনাঞ্চলের গাছপালা ও উদ্ভিদ শুকিয়ে যাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। এদিকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যেও চলতি মাসে বেশ কয়েকটি বড় দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব আগুনের ধোঁয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বায়ুমানেরও অবনতি হয়েছে।














